
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি, যাত্রী চলাচল এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্থলবন্দরগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় এসব স্থলবন্দর অবস্থিত। নিচে বাংলাদেশের ২৫টি স্থলবন্দরের নাম এবং এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হলো।
বাংলাদেশের ২৫টি স্থলবন্দরের নাম ও অবস্থান
| ক্রমিক | স্থলবন্দরের নাম | অবস্থান |
|---|---|---|
| ১ | বেনাপোল স্থলবন্দর | শার্শা, যশোর |
| ২ | বুড়িমারী স্থলবন্দর | পাটগ্রাম, লালমনিরহাট |
| ৩ | আখাউড়া স্থলবন্দর | আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| ৪ | ভোমরা স্থলবন্দর | সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা |
| ৫ | নাকুগাঁও স্থলবন্দর | নালিতাবাড়ী, শেরপুর |
| ৬ | তামাবিল স্থলবন্দর | গোয়াইনঘাট, সিলেট |
| ৭ | সোনাহাট স্থলবন্দর | ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম |
| ৮ | বিলোনিয়া স্থলবন্দর | পরশুরাম, ফেনী |
| ৯ | গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর | হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ |
| ১০ | সোনামসজিদ স্থলবন্দর | শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
| ১১ | হিলি স্থলবন্দর | হাকিমপুর, দিনাজপুর |
| ১২ | বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর | তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় |
| ১৩ | টেকনাফ স্থলবন্দর | টেকনাফ, কক্সবাজার |
| ১৪ | বিবিরবাজার স্থলবন্দর | বিবিরবাজার, কুমিল্লা |
| ১৫ | বিরল স্থলবন্দর | বিরল, দিনাজপুর |
| ১৬ | রামগড় স্থলবন্দর | রামগড়, খাগড়াছড়ি |
| ১৭ | দর্শনা স্থলবন্দর | দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা |
| ১৮ | ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দর | বকশীগঞ্জ, জামালপুর |
| ১৯ | শেওলা স্থলবন্দর | বিয়ানীবাজার, সিলেট |
| ২০ | বাল্লা স্থলবন্দর | চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ |
| ২১ | ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর | কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট |
| ২২ | দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর | জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা |
| ২৩ | চিলাহাটি স্থলবন্দর | ডোমার, নীলফামারী |
| ২৪ | তেগামুখ স্থলবন্দর | বরকল, রাঙামাটি |
| ২৫ | মুজিবনগর স্থলবন্দর | মুজিবনগর, মেহেরপুর |
মুজিবনগর স্থলবন্দর কোথায়?
মুজিবনগর স্থলবন্দর/স্থল কাস্টমস স্টেশন মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। এর বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। মুজিবনগর বাংলাদেশের ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল হওয়ায় এখানে সীমান্ত বাণিজ্য ও যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর কোনটি?
বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে এটি যুক্ত এবং বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কোন কোন জেলায় একাধিক স্থলবন্দর রয়েছে?
বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় একাধিক স্থলবন্দর বা স্থলবন্দর-সংক্রান্ত স্থান রয়েছে। যেমন:
- সিলেট: তামাবিল, শেওলা ও ভোলাগঞ্জ
- দিনাজপুর: হিলি ও বিরল
- চুয়াডাঙ্গা: দর্শনা ও দৌলতগঞ্জ
বাংলাদেশের স্থলবন্দরের বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ঘোষিত স্থলবন্দরের সংখ্যা ২৫টি। এর মধ্যে ১৫টি স্থলবন্দর চালু রয়েছে, কিছু উন্নয়নাধীন এবং কয়েকটি কার্যক্রম বন্ধ বা উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী বেনাপোল, বুড়িমারী, আখাউড়া, ভোমরা, তামাবিল, সোনাহাট, নাকুগাঁও, বিলোনিয়া, গোবরাকুড়া-কড়ইতলী, শেওলা, ধানুয়া-কামালপুর ও ভোলাগঞ্জ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে সোনামসজিদ, হিলি, বাংলাবান্ধা, টেকনাফ ও বিবিরবাজার BOT ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।
আরো পড়ুন:পিফাস কি ? পিফাস মানবদেহের জন্য কতটা ক্ষতিকর জানুন
উপসংহার
বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলো দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, সীমান্ত যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেনাপোল থেকে টেকনাফ, বাংলাবান্ধা থেকে তামাবিল এবং মুজিবনগর পর্যন্ত এসব সীমান্তকেন্দ্র বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
বাংলাদেশে মোট কয়টি স্থলবন্দর?
২০২৬ সালের বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সরকারি তথ্য অনুযায়ী ঘোষিত স্থলবন্দর ২৫টি।
বাংলাদেশের ২৫তম স্থলবন্দর কোনটি?
প্রচলিত তালিকা অনুযায়ী মুজিবনগর স্থলবন্দরকে ২৫তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এটি মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে অবস্থিত।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর কোনটি?
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও বৃহত্তম স্থলবন্দর এবং ভারত-বাংলাদেশ স্থলবাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি।